মেনু নির্বাচন করুন
নোটিশ

বিগত ১০ (দশ) বছরে বর্তমান সরকারের আমলে খাদ্য বিভাগের সাফল্য/উন্নয়নের চিত্র।

ফাইল

বিগত ১০ বছরে খাদ্য বিভাগের অর্জণ বিগত ১০ বছরে খাদ্য বিভাগের অর্জণ


ছবি


Publish Date

২০১৮-০৯-২২

Archive Date

২০১৯-০৮-২২

বিস্তারিত

বর্তমান সরকারের বিগত ১০(দশ) বছরে খাদ্য বিভাগের উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম/সাফল্যের সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন

১।         টেকসই উন্নয়ন অভিষ্টে (এসডিজি) ঘোষিত ‌‌‘নো প্রোভারটি’ ও ‌জিরো হাঙ্গার’ অর্জনের লক্ষ্যে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে পল্লি অঞ্চলের হতদরিদ্র জনসাধারণকে স্বল্পমূল্যে খাদ্য সহায়তা দেয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ব্রান্ডিং ‘খাদ্য বান্ধব কর্মসূচী’ গৃহীত হয়েছে। এ কর্মসূচীর আওতায় সারাদেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে ৫০ লাখ হতদরিদ্র পরিবারকে (বিধবা, বয়স্কা, পরিবার প্রধান নারী, নিম্নআয়ের দুঃস্থ পরিবার প্রধানকে অগ্রাধিকারভিত্তিতে) তালিকাভূক্ত করা হয়েছে এবং বছরের কর্মাভাবকালীন ৫ মাস (সেপ্টেম্বর-নভেম্বর ও মার্চ-এপ্রিল) তাদেরকে প্রতিমাসে ৩০ কেজি হারে প্রতি কেজি ১০ টাকা দরে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে এ কর্মসূচীতে এ জেলাতে ৫৩১৫৬ পরিবারের মাঝে ৩১৭১.৭৮০ মেঃ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।

২।         বাজারদর স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে খোলা বাজারে (ওএমএস) খাদ্যশস্য বিক্রয় কার্যক্রমের আওতায় বিগত ১০ (দশ) বছরব্যাপী সারাদেশে বিপুল পরিমান (চাল ২১.৯৫ লাখ মেট্টিক টন এবং আটা ১২.৫৯ লাখ মেট্টিক টন) খাদ্যশস্য বিতরণ করা হয়েছে।

৩।         ২০১০ সালে সরকার প্রথমবারের মত দুঃস্থ ও নিম্নআয়ের জন্য সুলভ মূল্যে কার্ডের মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি চালু করা হয়; এ কর্মসূচিতে মহানগর, জেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রায় ৭৭ লাখ পরিবারকে তালিকাভূক্ত করা হয় এবং ২ লাখ ৩৩ হাজার মেট্টিক টন চাল এবং ১ লাখ ২১ হাজার মেট্টিক টন গম বিতরণ করা হয়।

৪।         ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে শ্রীলংকায় ২৫,০০০ মেঃ টন চাল রপ্তানী করা হয়।

৫।         ২০১৫ ও ২০১৬ সালে নেপালে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তের জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে নেপালকে ২০,০০০ মে. টন চাল সহায়তা প্রদান করা হয়।

৬।         দরিদ্র জনসাধারণের পুষ্টির কথা বিবেচনা করে পুষ্টি সমৃদ্ধ প্রিমিক্স কার্ণেল সাধারণ চালের সংগে মিশ্রিত করে বেশ কয়েকটি উপজেলায় ভিজিডি খাতে বিতরণ করা হচ্ছে।

  ৭।       উৎপাদক কৃষকদের মূল্য সহায়তা প্রদান, খাদ্যশস্যের বাজারদর যৌক্তিক পর্যায়ে স্থিতিশীল রাখা, খাদ্য নিরাপত্তা মজুদ গড়ে তোলা এবং সরকারি খাদ্য বিতরণ ব্যবস্থায় সরবরাহ অব্যাহত রাখার নিমিত্ত ২০০৯ হতে ২০১৮ পর্যন্ত (৭/০৩/১৮) পর্যন্ত সারাদেশে সরকার অভ্যন্তরীণভাবে ১,০৫,৮৭,৪২৮ মে. টন চাল ও ৯,৬৩,০৫২ মে. টন গম সংগ্রহ করেছে এবং বিদেশ থেকে ২৬,৭০,৯৫৯ মে. টন চাল ও ৪২,৯১‌,৫১৪ মে.টন গম আমদানি করেছে।

৮।         ২০০৯ সাল হতে ২০১৭ সালের মধ্যে সারাদেশে গুদামের ধারণক্ষমতা ১৫ লাখ মে. টন হতে ২১ লাখ মে.টনে উন্নীতকরণ করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে তা ২৭ লাখ মে. টনে উন্নীতকরণের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এ সময়ে চাঁদপুর সদর উপজেলাতে ৯৫০০ মেঃ টন ধারন ক্ষমতার ১০টি নতুন খাদ্য গুদাম নির্মিত হয়েছে এবং মতলব(উঃ) উপজেলাতে ৫০০ মেঃ টন ধারণ ক্ষমতার ১টি, কচুয়া উপজেলাতে ১০০০ মেঃ টন ধারণ ক্ষমতার ১টি এবং হাইমচর উপজেলাতে ১০০০ মেঃ টন ধারণ ক্ষমতার ১টি নতুন খাদ্য গুদাম নির্মিত হচ্ছে।

৯।         ঢাকা শহরের পোস্তগোলায় ‘সরকারি আধুনিক ময়দা মিল নির্মাণ’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় দৈনিক ২০০ মে. টন ক্রাশিং ক্ষমতা সম্পন্ন ১টি ময়দা মিল এবং ১০,০০০ মে. টন ধারনক্ষমতার একটি সাইলো নির্মাণ করা হয়। এছাড়া আনুষঙ্গিক স্থাপনা হিসেবে অফিস ভবন, ডরমিটরি ভবন, ওয়ার্কশপ, ব্রান স্টোরেজ, গানি স্টোরেজ এবং ফিনিশড প্রডাক্ট স্টোরেজ নির্মাণ করা হয়েছে। এ মিলে উৎপাদিত আটা বর্তমানে সরকার নির্ধারিত ওএমএস খাতে বিতরণ করা হচ্ছে।

১০।        মোংলা বন্দরে ৫০০০০ মে. টন ধারনক্ষমতার কংক্রিট গ্রেইন সাইলো নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। এ প্রকল্পের আওতায় ৫০০০০ মে. টন ধারণক্ষমতার ৪০ মিটার উচ্চতার ৩০টি সাইলো বিন নির্মাণ করা হয়। এছাড়াও অফিস ভবন, ইন্সপেকশন বাংলো, স্টাফ কোয়ার্টার, ওয়ার্কশপ, গোডাউন, সাব-স্টেশন বিল্ডিং ও অভ্যন্তরীণ রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে।

১১।        ‘সান্তাহার সাইলো চত্বরে বহুতল খাদ্য গুদাম নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। এ প্রকল্পের আওতায় ২৫০০০ মে.টন ধারণক্ষমতার আধুনিক ওয়্যারহাউজ নির্মাণ এবং ৩৬০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার প্যানেল স্থাপন করা হয়।

১২।        বিশ্ব ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় ‘আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ, বরিশাল সদর, ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলার মধুপুরে ৬টি চালের এবং চট্টগ্রাম ও খুলনার মহেশ্বরপাশায় ২টি গমের সাইলোর নির্মাণ কাজ চলছে। নির্মিতব্য সাইলোগুলোর মোট ধারণক্ষমতা ৫.৩৫ লক্ষ মে.টন। এ প্রকল্পের আওতায় বন্যাকালীন সময়ে বীজ/খাদ্যশস্য সংরক্ষণের জন্য কোস্টার লাইন/সমুদ্র তীরবর্তী দুর্যোগ প্রবণ এলাকায় প্রতিটি ১০০ কেজি ধারণক্ষমতার ৫ লাখ হাউজহোল্ড সাইলো বিতরণ করার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

১৩।       খাদ্য নিরাপত্তা বিনিয়োগ পরিকল্পনা (সিআইপি); বর্তমান সরকারের “ভিশন ২০২১” অনুযায়ী বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার লক্ষ্যে “খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা” বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট ১৭টি মন্ত্রণালয়/বিভাগের সমন্বয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয়-ভিত্তিক ৫টি থিমেটিক টিম নিয়মিতভাবে কাজ করছে।

১৪।        বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ পরিকল্পনার আওতায় জুন, ২০১৬ পর্যন্ত খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি উন্নয়নে ১০.১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ কর্মসূচি ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা মেয়াদে বাস্তবায়িত হয়েছে। সম্প্রতি খাদ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা মেয়াদের দ্বিতীয়ার্ধে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় বিনিয়োগের জন্য গৃহিতব্য কর্মসূচি চিহ্নিতকরণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয় হয়েছে। বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ পরিকল্পনা-২ (২০১৬-২০২০) এর মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে পুষ্টি সংবেদনশীল খাদ্য ব্যবস্থাপনার (Nutrition Sensitive Food Systems) উন্নয়ন। এর অধীনে মোট ৫টি পিলারে বা মৌলিক বিষয়ের আওতায় ১৩টি কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ৯.২ বিলিয়ন ইউএস ডলারের বিনিয়োগ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং এর খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।

১৫।       বাংলাদেশ খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা কর্মসূচি ২০১৫: এ কর্মসূচিটি ৬ বছর মেয়াদে ১২৬.৫ মিলিয়ন ইউরো অনুদানের আওতায় ২০১৬ থেকে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইইউ অনুদান প্রদান করেছে। এর মাধ্যমে প্রথম বারের মত মাঠ পর্যায়ে (সিলেট ও পার্বত্য চট্টগ্রাম) মা, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের সামগ্রিক পুষ্টি ব্যবস্থাপনা এবং পুষ্টি সমস্যা সমাধানে কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নকারী সংস্থা ‘সেভ দ্যা চিলড্রেন’। এছাড়া “মিটিং আন্ডার নিউট্রিশন চ্যালেঞ্জ” নামক কম্পোনেন্টটির আওতায় খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা বিষয়ে নীতিগত ও কারিগরি সহায়তা এফএও এর মাধ্যমে প্রদান করা হচ্ছে।

১৬।       বাংলাদেশে বর্তমান সরকারের আমলে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ প্রণয়ন করা হয় এবং এর আওতায় প্রথম বারেরমত নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ গঠণ করা হয়।

১৭।        ০২ মার্চ নিরাপদ খাদ্য দিবস ঘোষণা করা হয়েছে এবং এ বছর প্রথম বারেরমত জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস-২০১৮ উদযাপিত হয়।

১৮।       নিরাপদ খাদ্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিজ্ঞানভিত্তিক পরামর্শ প্রদানের জন্য ৮টি টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠণ এবং খাদ্য স্থাপনা পরিদর্শন, খাদ্য নমুনা সংগ্রহ মামলা দায়ের ও পরিচালনা কাজে সহায়তার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, খাদ্য অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার ৭২৫ জন স্যানিটারি ইন্সপেক্টরদের নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শকের দায়িত্ব প্রদান।

১৯।        মোবাইল কোর্ট আইনে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ তফসিলভূক্তকরণ এবং সারাদেশে ৭১টি বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত গঠন।

২০।       প্রক্রিয়াজাত কৃষি পণ্য (উদ্ভিদজাত) রপ্তানির জন্য বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্যগত/রপ্তানি সনদ (Health Certificate/Export Certificate) প্রদান করা হচ্ছে।        


Share with :

Facebook Twitter